ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফ রাজুঃ আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষ সমবেত হয়ে জাতির জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণ করছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধার ফুলে ভরে তুলেছে স্মৃতির মিনার, সৃষ্টি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে গৌরবের এই দিনটি উদযাপন করছে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, "স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে সাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণের আহ্বান জানিয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।"
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।"
দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাক বিভাগ বিশেষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় শুরু হয় চূড়ান্ত সংগ্রাম। টানা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অকল্পনীয় আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সূর্য উদিত হয়, জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
এই মহান দিবসে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেই সব অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন স্বদেশ।